কয়েক সেকেন্ড মাত্র উঠেছে, আচমকাই ছোট্ট একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বন্ধ হয়ে গেল লিফট। কী হল? অফিসে টিমমেম্বারদের মধ্যে ঋদ্ধি বরাবরই ক্যাপ্টেন কুল বলেই পরিচিত। কোনও পরিস্থিতিতেই দিশাহারা হয়ে যায় না। কিন্তু এই মাঝরাত্তিরে এমন পরিস্থিতিতে কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম ফুটলো ক্যাপ্টেন কুলের। ভরসার কথা একটাই। লিফটের আলো নেভেনি। অ্যালার্ম বাটনটা টিপে দিল ঋদ্ধি। কিন্তু সেটা কাজ করল না।
Showing posts with label ছোটগল্প. Show all posts
Showing posts with label ছোটগল্প. Show all posts
Friday, April 29, 2022
Sunday, May 10, 2020
আলোর পিছনে
-
এই মুহূর্তে আপনার অনুভূতিটা যদি একটু বলেন..
আসপাশ থেকে ধেয়ে আসা প্রশ্নের ঝড়কে
উপেক্ষা করে, চুপচাপ মাথা নীচু করে সিঁড়ি দিয়ে উঠে যাচ্ছিলেন অগ্নীশ। ঘরের দরজার
ওপারে একান্ত অবকাশটার জন্য এমন মর্মান্তিক আকূতি আগে কখনো বোধ করেননি। তবু, এই
প্রশ্নটা তাঁর চলন থমকে দিল।
Saturday, April 25, 2020
জীবে প্রেম
||দোলা সেন||
দিনকাল বড়োই খারাপ যাচ্ছে ঋতির। বেশ
কিছুদিন ধরেই যা ঘটছে, সেগুলো যে খুব একটা ভালো ঘটছে না – সেটা পরিষ্কার।
আজকের সকালবেলার কথাটাই ধরা যাক। দ্রিঘাংচু
কি এমন মহামূল্যবান জিনিস চেয়েছিলো শুনি? যেটা নিয়ে এমন মহাভারত তৈরি করতে হবে?
Wednesday, March 18, 2020
অন্য রুকু সুকু
ব্যাগে
বই ঢোকাতে ঢোকাতে সুকু ঘাড় ঘোরায় –
- কি ব্যাপার,
স্কুলে যাবি না?
- নাঃ। পেটে ব্যথা যে!
- পেটে ব্যথা তো তীর বানাচ্ছিস কি করে?
- ব্যথা তো পেটে, হাতের কি?
- তীর ছুলতে পারিস, আর স্কুল যেতে পারিস না?
Friday, February 21, 2020
একটি দরজার সন্ধানে
- তুর
কুনুইটো অমন লিল হই গেল কেমনে?
- পড়্যে
গিলাম যি গো। উঠোনে পাটো পিছলাই গেল।
- মরদটো
যদ্দিন ছিলো, আমুও অমনি অনেক পিছলাইছি।
Wednesday, August 14, 2019
পরিচয়
হাত ফসকে বাটিটা পড়ার আওয়াজকে ছাপিয়ে
সুমনার গলা ঝনঝনিয়ে উঠলো
-
একটু সামলে কাজ করতে পারোনা? অতো দামী
বাটিটা...
এরপর একটু আস্তে কিন্তু শ্রুতিযোগ্য
স্বরে,
-
ভাঙলে ভাঙুক লোকের জিনিস। নিজের হলে কি
আর...। অবশ্য দামী সস্তা আর বুঝবে
কোত্থেকে? বাপের জম্মে দেখেছে এসব জিনিস? নেহাৎ রান্নাটা ভালো তাই, নইলে.......
Friday, May 10, 2019
অথ-কুটু-চরিতকথা
কুটু মাহাত ভারী মুস্কিলে পড়েছে। অনেকদিনের সরকারি চাকুরে – বেলপাহাড়ীর রেঞ্জ অফিসারের আর্দালী সে। তা কত বড়বাবুই তো আসে যায়; কুটু সবার কাছেই কাজ করে। কিন্তু কই, এমন ফ্যাসাদে তো কেউ ফেলেনি তাকে!
Monday, April 22, 2019
শেষ উত্তর
কেন যে ছাই মাথায় অঙ্কটা ঢোকে না কিছুতেই?
প্রায় পৌনে ঘণ্টা ধস্তাধস্তির নেট ফল হলো বাবার চেয়ে ছেলের বয়েস দশ বছর বেশি! রাগের
চোটে মাথার চুলগুলোকে উপড়ে ফেলতে ইচ্ছে
করছে শিবানীর। এই অঙ্কটা বিকেলে ওই গুণধরকে দেখাতে হবে ভেবে রাগটা আরও একমাত্রা বেশি।
Friday, April 12, 2019
পরজনমে হইয়ো রাধা
পবিত্র
দেবভূমি হৃষিকেশ। গৈরিকবসনা গঙ্গার তীর ধরে একটু এগিয়ে গেলে ডানদিকের বন চিরে যে
পাথুরে পায়ে চলা রাস্তাটা চলে গেছে, তা শেষ হয়েছে একটা ছোট্ট আশ্রমে।
Monday, March 25, 2019
কোন মানে হয় না
ভীষণ বিরক্তিতে
চায়ের কাপটা ঠক করে নামিয়ে রাখলেন অনুপমা। খবরের কাগজটাকে ছুঁড়ে ফেললেন পাশের
টেবিলটায়। রাগের চোটেই বোধহয় লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেন, কাগজটা আধখোলা অবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে
রইল মেঝেতে। দেখে বিরক্তিটা আরো বাড়ল অনুপমার। ছড়ানো ছেটানো অগোছালো চারপাশ
একেবারে বরদাস্ত হয় না তাঁর।বিড়বিড়িয়ে বলে উঠলেন নিজের মনেই, ‘কোন মানে হয় না।‘
Saturday, January 19, 2019
এক যে ছিল ----
বেদনায় ভরে গিয়েছে পেয়ালা –
নিঃশব্দ রক্তক্ষরণ হয়েই চলে বুকের
মাঝে, চোখের জল আগুন হয়ে ঝরে, চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা হয় – ওগো এভাবে আদর দিও না,
যত্ন করো না। আগাছাই যদি হয় তাকে তার মতো বাড়তে দাও – সবার সাথে লড়াই করে বাঁচতে
দাও।
Thursday, January 10, 2019
মুহূর্ত
বাড়ীতে যখন ডলপুতুলের মত একটা ছোট্টো ভাই এল, তখন সব্বার মত রিনিও খুব খুশী হয়েছিল। ছোট ছোট দুবেণী দুলিয়ে ভাইকে কোলে নিতে যেতেই মা বলে উঠলেন, “ওরে এটা বড্ডো ছোট। ওভাবে নিতে নেই। তুই বাবু হয়ে বস দেখি, আমি তোর কোলে দিচ্ছি।”
বৃষ্টি এলো
শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে.......
গান নয়, রিংটোন। কিছুদিন হল রোজ দুপুরে
একটা অজানা নম্বর থেকে কল আসছে। পুরোনো কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্য মৌমিতা ইদানীং
অজানা নম্বর থেকে কল এলে ধরতে চায় না।
Thursday, January 3, 2019
আকাশের নীল
‘নীলা, তুইকি
জানিস যে সুস্মিত - দ্য ডিবেটার তোকে খুব পছন্দ করে ?’
নীলা তখন খুব মন
দিয়ে একটা প্রজাপতির ছবি তোলার চেষ্টা করছে। মিলির দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ খবরটা তাই
হাওয়ায় ভেসে যায়। একটু বিরক্তই হয় মিলি। নীলাটা চিরকাল একইরকম রয়ে গেল! এবার তাই
প্রিয়বান্ধবীকে ধরে ঝাঁকিয়েই দেয় – ‘কি রে, কী বললাম, কানে গেল?’
Sunday, December 30, 2018
নদীর নাম ময়ূরাক্ষী
বড় শান্ত নদীটি।
কূল ছুঁয়ে ছুঁয়ে বয়ে যায়। শান্ত এক মেয়ে। কাজলকালো তার চোখ। ভীরু ভীরু পায়ে সে
পার হয়ে আসে তার শৈশব, তার কিশোরী বেলা। সমনামী বলেই নদীটির সাথে তার এত ভাব কিনা
কে জানে ! কেন জানি ওর মনে হয় এই নদীর সাথে ওর বড্ড বেশী মিল।
Saturday, December 22, 2018
বৃত্তান্তর
বাস থেকে নেমেই এদিক ওদিক চাইল রাই। সারাটা রাস্তা এই একজনের মুখ ভাবতে ভাবতেই এসেছে। ভাবতে চায়নি, বহুবার জোর করে ভাবনাটা সরিয়ে দিতে চেয়েছে – কিন্তু জানলার হাওয়ায় উড়ে যাওয়া চুলের মতোই মনটা আজ ভারি অবাধ্য হয়ে আছে। ইচ্ছে করেই নির্ধারিত সময়ের দশ মিনিট আগেই এসেছে সে।
Friday, December 21, 2018
জলশঙ্খ
ছলাৎ
ছল ছলাৎ ছল
গল্প
বলে নদীর জল.....
কেন
কে জানে, আজকাল নদীর ধারে এসে বসলেই তার এই দুটো লাইন মনে পড়ে। বহু চেষ্টা করেও
কিছুতেই মনে করতে পারে না, এটা সে কোথাও পড়েছে না কি তার মনেরই গভীর গহন কোনো কোণ
থেকে উঠে আসছে এই লাইন দুটি? কিছু কি গল্প বলে এই নদী, নাকি এতো জানে বলেই নদী কথা
বলে না.......
কাক বা নারীমন
বিয়ে হয়ে
শ্বশুরবাড়ী এসে গৌরী ভারী মুস্কিলে পড়ল। শ্বশুরমশাই আর বর সুদেব অফিসে বেরিয়ে গেলে
ঘর একদম ফাঁকা। শাশুড়ীমা তো কবে থেকেই ছবি হয়ে ঝুলছেন দেওয়ালে। একা বাড়িতে তার সময়
আর কাটতে চায় না। তার উপরে আরেক জ্বালা বাথরুম বা স্নানঘর। গ্রামের মেয়ে গৌরী।
চিরটা কাল পুকুরে নাইতে যেত। এই মফস্বলের স্নানঘরে তার গা ঘিনঘিনিয়ে ওঠে।
Subscribe to:
Posts (Atom)