ভালো আছি ভালো থেকো -(৩)
২১/১১/২০২৪
(বৃহস্পতিবার) –
আজ ভোরে বেরোতে
হবে। আবার ফেরি, চেকপোস্ট পার হয়ে পোর্ট ব্লেয়ার। লক্ষ্য সাড়ে ছটার গেট । সেখানে
হোটেলে জিনিসের বোঝা নামিয়ে সোওজা ফেরিঘাট। এগারোটায় রস আইল্যান্ডে যাবার শেষ
ফেরি। তাই তাড়াহুড়ো। আজ ফেরার পথে বেশি ভিড় নেই। কারণ, ট্যুরিস্টরা সাধারণতঃ লাইমস্টোন কেভ দেখে ফিরে
যান। প্রথম ফেরি ধরে বারাটাং এসে লাইমস্টোন
কেভ দেখে আবার সাড়ে তিনটের শেষ গেট ধরে ফিরে যান। গাড়ি এধারেই অপেক্ষা করে।
যাত্রীরা লঞ্চে করে ওপারে চলে যান।
রস যাবার জন্য
ফেরিঘাটটি ভারি সুন্দর। ছোট্ট দ্বীপ। ১৯৪৩ এ নেতাজীর হাত ধরে ভারতের প্রথম
স্বাধীনতার পতাকা উড়েছিল এখানেই। রসের নতুন নাম আজ নেতাজী সুভাষচন্দ্র দ্বীপ। এখন
জাপানী সৈন্যশিবির এবং ইংরেজ উপনিবেশের নানান
বাড়িঘরের অবশেষ। সবুজ গাছে ঘেরা দ্বীপের বিভিন্ন
স্থানে পাথরের ফলকে লেখা ইতিহাস। আর আছে অসংখ্য হরিণ। ডাস্টবিনে মুখ ঢুকিয়ে গরুর
মতোই খাবার খোঁজে। পর্যটকরা খাবার দিলে কাছে এসে খেয়ে যায়। বন্যেরা বনেই সুন্দর।
এদের এভাবে দেখতে আমার একটুও ভালো লাগছিল না। হাতে বেশ কিছুটা সময়। বনপথ ধরে কিছুটা
হেঁটে, পাথরের সিড়ি ভেঙে নীচে সমুদ্র দেখা গেল।
বেশ পাথুরে বিচ। আর ফেরির সময়ে ফিরতেও হবে। ফলে হাঁচোড় পাঁচড় করে নামার
চেষ্টা না করে, চুপটি করে একটা পাথরে বসে
নির্জন নীল-সবুজ সমুদ্রে দেখাই ভাল। পাখির ডাক, জলের শব্দ, পাতার ঝিরিঝিরি – আর
আমরা দুটি মানুষ। ফেরার পথে কয়েকটা ময়ূর দেখা গেল। তারা দূরেই রইল। এরা এখনো মুরগি
হয়ে যায়নি বলেই মনে হল। ভালো লাগল তাই।
এবার যাব নর্থ বে
আইল্যান্ড। কোরাল দ্বীপও বলতে পারেন। ওয়াটার স্পোর্টের জন্য বিখ্যাত। তবে সিনিয়র
সিটিজেনদের জন্য তার অনুমতি মেলে না। অগত্যা
সাবমেরিন বোট। নীচের অংশ ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে তৈরি। ছোট্ট বসার জায়গা। কিছুটা
সাফোকেটিংও বটে। কিন্তু সেসব কিছু মনে করার অবস্থায় থাকলাম না চারপাশের অসংখ্য
বিচিত্রবর্ণা কোরাল আর রঙিন মাছেদের দেখে। সামুদ্রিক উদ্ভিদেরাও রঙের খেলায় কারো
চেয়ে কম নয়। আন্দামানের সমুদ্রের জল সর্বত্রই কাচের মতো পরিস্কার। আড়াই- তিন ঘন্টা
পরে লঞ্চ ফিরবে।। অনেক রকম খাবার দোকান আছে পাশাপাশি। দুপুরের খাওয়াটা ভালোই হল।
এবার চুপটি করে বসে করুণ চোখে স্কুবা ডাইভার, স্নরকেলিং ফেরত মানুষজনকে দেখা।
পোর্ট ব্লেয়ারে
পৌঁছে একটু ফ্রেশ হয়ে গেলাম মেরিন
মিউজিয়াম দেখতে। আন্দামানের বিভিন্ন
জনজাতির ঘরে মডেল. তাদের জীবনধারার জীবন ও সংস্কৃতির নানান পরিচিতি, সব মিলিয়ে
ভীষণ ভালো লাগল। অনেক অজানা বিষয় চোখের সামনে ফুটে উঠে সারাদিনের ক্লান্তি হরণ করে
নিল। মনে পড়ল অরুণাচলেও এমন একটি মিউজিয়াম আছে।


















































