ভালো আছি, ভালো থেকো (২)
দোলার কলমে
Wednesday, March 18, 2026
ভালো আছি, ভালো থেকো
|| দোলা সেন||
-
এখানে কেমন আছেন
আপনারা?
-
ভালো আছি। সবাই মিলেমিশে শান্তিতে আছি।
খুব সাধারণ বাক্যবন্ধ। প্রথমবার নয়দিনের ছুটিতে আন্দামান গিয়ে এক
অটোড্রাইভারের সঙ্গে প্রথম কথোপকথন। শুরুতে কিছু মনে হয়নি জানেন? কিন্তু ঘুরতে
ঘুরতে যার সঙ্গে যখনই কথা হয়েছে, এই একই
কথা শুনে শুনে, মনের মাঝে সুর গুনগুনিয়ে ওঠে – এইখানে যদি একটুকু বাসা...
কথা পড়তে পায় না, ডাব কাটতে কাটতে পথের ধারের দোকানী বা জাল গোটাতে গোটাতে
জেলে সব্বাই একস্বরে বলেন – থেকে যান। একটা বাড়ি কিনে নিয়ে, থেকে যান। চোর-ডাকাত
নেই, কোনো ক্রাইম নেই – প্রকৃতির শান্ত আঁচল পাতা আছে শুধু। চা বানাতে বানাতে এক
দিদি বলেন – তিরিশ বছর ধরে আছি। আজকাল মেইনল্যান্ডে গিয়ে থাকতে পারি না। দশ-বারো
দিন থাকব বলে যাই, পাঁচ-সাত দিনেই পালিয়ে আসি। ভীড়, মারপিট, চুরি, ছিনতাই ...।
একজন সদুঃখে জানালেন – শিলিগুড়ির বাসস্ট্যান্ডে সুটকেশ রেখে
দু-মিনিটের জন্য টয়লেট গেছি, এসে আর পেলামই না! - বিস্ময়ের সঙ্গে ক্ষোভ ঝরল গলায়।
বিস্মিত হচ্ছিলাম আমিও। সত্যি বলছে তো! দুবারে প্রায় দিন কুড়ি কাটিয়ে বিশ্বাস
করতে অসুবিধে হয়নি।
আন্দামান - নীলের কোলে শ্যামল সে দ্বীপ প্রবাল দিয়ে ঘেরা। সমুদ্র তাকে বহু বছর
আলাদা করে রেখেছিল। সবুজ বন, বনবাসী মানুষ আর আপন জীববৈচিত্র্য নিয়ে এক নিশ্চিন্ত
আশ্রয়ে জীবন চলছিল তার নিজস্ব গতিতে। পঞ্চাশ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রকৃতির
সঙ্গে মিলেমিশে দিন কাটাত পৃথিবীর অন্যতম আদিম অধিবাসীরা – গ্রেট আন্দামানীজ, জারোয়া,
ওঙ্গে আর সেন্টিনেলীর দল। মানব সভ্যতা যে গতিতেই এগিয়ে চলুক না কেন, তাদের আদিম
বনজীবনে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। সপ্তদশ শতাব্দীতে ভূপর্যটকদের দল প্রথম এর
অস্তিত্ব সম্বন্ধে জানায়। কিন্তু আদিবাসীদের তীব্র প্রতিরোধে সেখানে কেউ বসতি
স্থাপনের চেষ্টাই করেনি। আন্দামানের জনজীবন
ভীষণভাবে ধাক্কা খেল পরের শতকে। ভারতের শাসনভার তখন ইংরেজদের হাতে। তারা
দেখল এখানে এই দ্বীপটির অবস্থান নৌসেনার এক ঘাঁটি হবার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
মূলত সেই কারণে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য একটা বিচ্ছিন্ন এবং দুঃসহ কারাগার
তৈরি করতে পোর্ট ব্লেয়ারে বসতি স্থাপন হল। তৈরি হল কুখ্যাত সেলুলার জেল। মূল
ভূখন্ড থেকে প্রায় তেরশ’ কিলোমিটার সমুদ্র পার করে জাহাজে করে বন্দীদের নিয়ে আসা
হত। এতে মূল ভূখন্ড থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন
করে দেওয়াও গেল, আর নৌবহরের জন্য কাঠ, বন কেটে বসত করার জন্য বেতনহীন শ্রমিকও
পাওয়া হল। সে অত্যাচারের বর্ণনা আপনারা অনেক শুনেছেন। পরে ধীরে ধীরে আরও নানান জায়গায় বসতি স্থাপন
হয়। গ্রেটার আন্দামানীজ আর ওঙ্গেরা মূলস্রোতে মিশে গেছে অনেকটা 💩 ই। জারোয়ারা কিছুটা
নিজেদের মতো থাকে। তবে সভ্যজগতের সঙ্গে একেবারে সম্পর্কহীন নয়। তবে সেন্টিনেলীজরা
নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছে। তাদের থাকার দ্বীপগুলি একেবারে বিচ্ছিন্ন।
সেখানে যাবার অনুমতি নেই। সে চেষ্টা করতে গিয়ে বেশ কিছু মানুষের প্রাণও গেছে।
সব মিলিয়ে এই জনজীবন নিয়ে
খুব আগ্রহ হয়েছিল। তদুপরি তার সৌন্দর্যের কথা এত শুনেছি, যে সুযোগ হতেই পাড়ি
দিয়েছিলাম আন্দামানের উদ্দেশ্যে। প্রথমবারের সেই আনন্দ ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিই
এবার।
দুবছর আগে - ১৮/১১/২০২৪
(সোমবার)–
দু ঘন্টার উড়ানে আকাশ থেকেই চোখে পড়ল সমুদ্রে ঘেরা সবুজ দ্বীপখানি। সকাল বারোটার মধ্যে ঢুকে হোটেল সি ভিউ। হোটেল থেকে দূর সমুদ্রের দেখা মেলে। মোটামুটি ছিমছাম। সবচেয়ে সুবিধের কথা হলো বেরিয়েই অটো স্ট্যান্ড। স্বাধীনভাবে চলে যাওয়া যায় যে কোনো জায়গায়। ট্যুরিস্টের কাছে বেশি পয়সা নেবার প্রবণতা নেই। গল্প করতে করতে নিশ্চিন্তে চলে যাওয়া যায়। পথ ঝকঝকে। কথা ছিল বিকেলে সেলুলার জেল দেখব। আর লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। কিন্তু দেখা গেল সোমবার এখানকার সব দ্রষ্টব্য স্থান বন্ধ থাকে। অতএব চল করবাইন কোভ। অটোড্রাইভার দাঁড় করালেন এক জায়গায়। রেলিংঘেরা পথ দিয়ে একটু এগোতেই নিচে সমুদ্র। আগ্নেয় শিলার খাঁজে খাঁজে জলের খেলা। মুগ্ধ হয়ে দেখি। আরো এগিয়ে বালুকাবেলা। রঙে রঙে আকাশ রাঙিয়ে সূর্যদেব পাটে বসলেন। রঙ ছড়িয়ে গেল ভিজে বালুতেও।
Friday, November 3, 2023
একটি অসমাপ্ত চিঠি ||দোলা সেন||
TO WHOM IT MAY
CONCERN
মারহাবান ইয়া সাদিকী – প্রিয় বন্ধু হে,
সমুদ্দুরে হারিয়ে যাওয়া নাবিক যেমন ছিপি আঁটা বোতলে চিঠি লিখে ভাসিয়ে দেয়, তেমনি এ চিঠি আমি ভাসিয়ে দিলাম অন্তর্জালের সাগরে। কবে কোথায় কার হাতে পৌঁছাবে আমি জানি না। হয়তো হারিয়ে যাবে শত সহস্রকোটি শুভেচ্ছা, সেলফি, ছবি, লেখার ভিড়ে। হয়তো কোনো দরদী বন্ধুর চোখে পড়বে – তারপর? হয়তো দুফোঁটা জল গড়াবে তার চোখ দিয়ে। কিংবা.... কিংবা তার চোখে জ্বলে উঠবে আগুন – অনিয়ম আর অবিচারের বিরুদ্ধে একটুকরো স্ফুলিঙ্গ। অথবা – আমি জানি তার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি – একটা ছোট্ট “আহা”-র অবজ্ঞার তলায় চাপা পড়ে যাবে সবকিছু। আমাদের এটাই ভবিতব্য যে!
Friday, September 8, 2023
চিরসখা হে ||দোলা সেন||
Wednesday, July 5, 2023
বাঁক ||দোলা সেন||
পাহাড় চিরে লাল স্করপিও ছুটে চলছিল। দুই ধারে ঘন বন। বনের নীচের অংশে ঝোপ আর লতায়-পাতার সাদর জড়াজড়ি। তার মধ্যে দিয়ে নজর চলে না। ঢালের দিকে জমি সোজা নেমে গেছে। শ্রী জানালার কাচে মুখ ঠেকিয়ে, অবাক চোখে এই প্রায় অগম্য জঙ্গল দেখছিল। পাশ থেকে ছোট ভাইয়ের প্রশ্ন ভেসে এল – তখন থেকে অমন করে কী দেখছিস রে দিদি?
- ওই কলাগাছগুলো দেখ। এত লম্বা কলাগাছ আমি কক্ষণো দেখিনি। প্রায় দশফুট লম্বা তো হবেই।
Saturday, June 10, 2023
গন্তব্য যখন উপলক্ষ্য ||দোলা সেন||
[১]
চৈত্রমাসের প্রথমেই পরপর দু-তিনদিন বৃষ্টি হয়ে গেল ঝমঝমিয়ে। শিলও পড়ল টুপটাপিয়ে। ভোররাতে বৃষ্টিভেজা হাওয়ায় শিরশিরে আমেজ ফিরে এলে, ছেঁড়া ছেঁড়া ঘুমকে চাদরে জড়িয়ে নিয়ে বউটি পাশ ফিরে শোয়। আজ নাহয় একটু দেরিতেই উনোনের আঁচ পড়বে। ডানা গোটানো পায়রা গিন্নির হালকা বকবকমে কর্তার ঘুম ভাঙাবার চেষ্টা। কর্তার আধখোলা চোখে একটু ঝিমিয়ে নিচ্ছেন। তিনি জানেন, কুয়াশার পর্দা কেটে রোদ উঠলে তবেই উঠোনে গম ছড়াবে আদুল গায়ের কিশোর।
Saturday, April 22, 2023
অলজ্জ ||দোলা সেন||
[প্রথম পর্ব]
- তাহলে ফাইনাল তো?
পাশের সোফায় বসা টেকোমাথা লোকটি হাসল একগাল –
- বলো তো ফার্স্ট পেজেই.....
- কবে এমন অন্যায় আবদার করেছি বলুন তো? - মোহন হাসি হাসল মেয়েটি।
- আমি পেজ থ্রি পেলেই বর্তে যাব।
নীল-সাদা মিনিস্কার্টের ওপর ঘননীল অফ শোল্ডার টপ। জুসের গেলাসে আলতো চুমুক। পায়ের উপর পা তুলে বসল আরাম করে। লোকটি সিগারেট হাতে নিল। সামনে ঝুঁকে পড়ে নিপুণ হাতে লাইটার জ্বালিয়ে দিল মেয়েটি। চোখের আরামের কোন ত্রুটি রাখল না। সে জানে পুরুষের দৃষ্টি কোনোমতেই সরবে না এখন। আদুরে হাসি ফোটাল গলায় –
- কাল আমার শো আছে। অফিসে আপনার কার্ড পাঠিয়ে দিয়েছি। আপনি ব্যস্ত মানুষ। কাগজ, ম্যাগাজিন সব সামলাতে গিয়ে, আমায় ভুলে যাবেন না তো?


































