অনেকদিন মানে প্রায় অর্ধশতাব্দীর ওপারের
এক শীতের সকাল। হিমেল হাওয়ায় গাছের পাতাথেকে শিশির ঝরে পড়ছে – টুপ্ টাপ্ টুপ্ টাপ্।পাখিরা সব ঘুম থেকে উঠে পোকামাকড়ের সন্ধানে
বেরিয়ে পড়েছে। রোদের ওম গায়ে জড়িয়ে আরাম করার জো নেই তাদের। ভোরের লাল রঙ ছেড়ে
সুজ্যিঠাকুরের রঙ এখন নরম সোনালি। একটু পরে আলো রূপোলি হয়ে গেলেই সে বনের পাতাদের
ফাঁক গলে নেমে এসে মাটিতে সুন্দর আলোছায়ার আলপনা তৈরি করবে। তারপরে এই শিশিরে ভেজা
মাটি, ঝরাপাতার দল দিব্বি গা শুকিয়ে খটখটে হয়ে উঠবে। তখন এই পথ দিয়ে কেউ চললেই মচ মচ
আওয়াজ উঠবে।
Showing posts with label বন জঙ্গলের গল্প. Show all posts
Showing posts with label বন জঙ্গলের গল্প. Show all posts
Thursday, April 18, 2019
Friday, March 22, 2019
আঁধার পেরিয়ে
সিম্বার মনটা আজ খুব ভালো আছে। গতকাল যে হরিণটা ও শিকার
করেছিল, হায়নার দল তার খোঁজ পায়নি। তাই আজকের খাওয়াটাও জম্পেশ হল। এমনটা কালেভদ্রে
হয়। কোত্থেকে যে গন্ধ পায় এই পরগাছাগুলো! ঠিক হাপিস করে দেয় সিম্বার এত কষ্টের
শিকারদের। বিরক্তি প্রকাশ করতেই বোধহয় সে তার সোনালি কেশরওয়ালা মাথাটা একবার
ঝাঁকিয়ে নিল।
Friday, January 4, 2019
বনে- জঙ্গলে -৫ (শিকার পর্ব) শিকারের খোঁজে
চৈত্রের নেশা ধরানো গরম দুপুর। শুকনো
পাতা টুকটাক ঝরে পড়ছে পথের ধারে। নেহাত গাছপালার ছায়া আছে বলে রোদের তাতটা বোঝা যাচ্ছে
না। বরং দমকা গরম হাওয়ায় ঘাম শুকিয়ে আরামই লাগছে। সূর্য পশ্চিমপারে একটু হেলে গেলেই
গরম উধাও হয়ে যাবে। আর বিকেল নাগাদ যদি একটু ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয় তাহলে তো রাতে
শোওয়ার সময় একটা চাদর টেনে নিতে হবে। ভাবনাগুলোকে এলোমেলো হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে অলোক
পথ চলছিল।
Wednesday, December 26, 2018
চেনা –অচেনায় (4) চড়াইপাখি বারোটা
‘ডাকছে তোমায় তাই যদি হয়, তাহার কাছে যাও
কাছে গিয়েও আপন ছাড়া, কারেও নাহি পাও।’
ধাঁধা যে কি ধন্দের সৃষ্টি করতে পারে তা কি আগে জানতাম! পরিস্থিতি শিখিয়েছিল - আয়নার ধান্দাবাজি! হ্যাঁ মশাই, নাকের জলে চোখের জলে।
চেনা অচেনায় – (3) টিয়া, টিয়া, টিয়া.......
আমার এই বনধুটির নাম মহারাজ। বনধু হলে হবে কি, এর মত হাড়বজ্জাত টিয়া আমি বাপের জন্মে দেখিনি।
চেনা-অচেনায় (2) হাতী আমার সাথী
তারে আমি চোখে দেখিনি,
শুধু গল্প শুনে
– না:
অল্প নয় অনেক ভালবেসেছি,
তার ছবিতে হাত বুলিয়ে চোখ উপছে জল ঝরিয়েছিও অনেক
– আজও তার কথা হলে গলার কাছে ব্যথা। তার নাম ‘শিউজী’,
বনবিভাগের গর্বের মহাকাল।
চেনা-অচেনায় (1) আর্কটিক টার্ন
বনধু হরেক রকম। কিছু চেনা প্রাত্যহিক দেখাশোনায়, কিছু অন্তরের আন্তরিকতায়। অন্তরমিলের তালিকায় প্রথমেই যার নাম, তাকে সবাই একডাকে চেনে – তার নাম Arctic Tern.
Tuesday, December 25, 2018
বন-জঙ্গল - (৫) – কুয়াশা পর্ব
বন-জঙ্গল - (৪) (হস্তীপর্ব)
ইদানীং বাঁকুড়া – পুরুলিার ছোটনাগপুর
এলাকায় হাতীর উপদ্রব খুব সাধারণ ঘটনা। হাতীর সংখ্যা বেড়েছে, অথচ জঙ্গল না বেড়ে কমে
গেছে। ফলে হাতী খাবারের লোভে প্রায়ই চলে আসে লোকালয়ে। হরেন-বিপিন-আফজলের মাথার ঘাম
পায়ে ফেলে তৈরি ফসল খেয়ে ফেলে; মালতীবালার কলাবাগানের দফা রফা করে। এরা তাই মশাল,
ক্যানেস্তারা নিয়ে হৈ হৈ করে ওদের ভাগায়। কখনো এরা জেতে, কখনো ওরা। মাঝে মাঝে
গ্রামবাসীরা দল বেঁধে চড়াও হয় ফরেস্ট অফিসে। বিক্ষোভ দেখায়, তাতে কিছুটা ক্ষতিপূরণ
হয়ত পায়, কিনতু সমস্যাটার সমাধান হয় না।
বন-জঙ্গল – ৩ সত্যপর্ব – ৩
বাদাবনের মানুষ, বাঘ,
কুমিরের সাথে মিলেমিশে দিব্বি ছিলেন সত্য – হঠাৎ বিভাগীয় বড়কর্তার ডাকে কলকাতা
ছুটতে হল তাঁকে। কি এমন ঘটল, যাতে নিম্নতম অফিসারের খোঁজ পড়ে, সেই জিগ্স পাজল
মেলাবার চেষ্টায় গলদ্ঘর্ম হতে হতে পৌঁছেও গেলেন একসময়।
- “অতীন রায়কে চেনেন ?”
বন-জঙ্গল – ২ সত্যপর্ব - ২
সত্যপ্রিয়কে আজ
আর চেনা যায় না। সুন্দরবনের দীনু নামের গ্রামবাসীটির মৃত্যু তাঁকে আমূল বদলে
দিয়েছে। বাইশ বছরের অনভিজ্ঞ তরুণটি আজ বনবিভাগের অন্যতম দক্ষ ও সাহসী কর্মী।
বনকে ভালবেসে,
তার অধিবাসীদের ভালবেসে সত্যপ্রিয় গত কয়েক বছরে অনেক কিছু শিখেছেন।
বন-জঙ্গল – ১ সত্যপর্ব -১
“কলকাতায় জন্মকম্মো,
জঙ্গলে টিঁকতে পারবেন তো মশাই ?”
সময়টা ১৯৫৫ সালের কাছাকাছি। ফরেষ্ট বীট অফিসারের
চাকরির চিঠিটা পেয়ে যতটা খুশী হয়েছিল সত্যপ্রিয়, জয়েন করতে এসে ততটাই হকচকিয়ে গেছে
বেচারী।
Subscribe to:
Posts (Atom)