Wednesday, February 1, 2023

তোমারো অসীমে

 


||দোলা সেন||

 

তমারে হাবে জরুরি না থী –

সেই দুপুর থেকে শব্দগুলো মাথায় হাতুড়ির ঘা মেরে যাচ্ছে, মেরেই যাচ্ছে। ঘরের দাওয়ায় বসে রতন সকালবেলার দৃশ্যপট আর মালিকের ভাবলেশহীন মুখে উচ্চারিত শব্দগুলোকে নানান পারমুটেশন কম্বিনেশনে সাজিয়ে দেখে যাচ্ছে। বিকেল গড়িয়ে গেল, কিন্তু তার অর্থ কেমন যেন কিছুতেই বোধগম্য হচ্ছে না। এমন নয় যে, সে গুজরাটি জানে না। নয় নয় করে তার দশ বছর কাটানো হয়ে গেল এই দেশে। আর আজ কিনা মালিক নির্বিকারভাবে উপদেশ দিল – ঘর পাছা যাও। 

Friday, April 29, 2022

ইউ-টার্ন ||দোলা সেন||


কয়েক সেকেন্ড মাত্র উঠেছে, আচমকাই ছোট্ট একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বন্ধ হয়ে গেল লিফট। কী হল? অফিসে টিমমেম্বারদের মধ্যে ঋদ্ধি বরাবরই ক্যাপ্টেন কুল বলেই পরিচিত। কোনও পরিস্থিতিতেই দিশাহারা হয়ে যায় না। কিন্তু এই মাঝরাত্তিরে এমন পরিস্থিতিতে কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম ফুটলো ক্যাপ্টেন কুলের। ভরসার কথা একটাই। লিফটের আলো নেভেনি। অ্যালার্ম বাটনটা টিপে দিল ঋদ্ধি। কিন্তু সেটা কাজ করল না।

কণ্ঠস্বর, টেলিফোন এবং.... ||দোলা সেন||

একটা ক্যাডবেরি, আর দুশো জিরেগুড়ো...

-       আরও দু-একটা জিনিস বল। নইলে ধরা পড়ে যাবি তো!

মেয়েটা গম্ভীরমুখে দোকানদারকে মেপে নেয়।

-       বাজে বকো খুব। তবে কাকিমা হলুদ আর চানাচুরও বলেছিল। যাকগে, চকলেট ছাড়ো। একটা ফোন করতে হবে।

বুড়োদা আর কিছু বলে না। নীরবে ফোনটা দেখিয়ে দেয়। মেয়েটা একমনে ডায়ালের নম্বর ঘোরায়।

ক্র্যাং ক্র্যাং.....

Thursday, April 7, 2022

পায়রাচরিত ||দোলা সেন||

 

কান বালিশে চেপে ছেঁড়া ঘুম জোড়া দেবার আপ্রাণ চেষ্টা। বালিশে গায়ে সুতোর লেজ থাকে না‎ বালিশ বেচারা ঘুম সেলাই করতে গিয়ে, ফুসফুসিয়ে শব্দদের বয়ে যেতে দেয়। মেলিয়াসেরা তিন ভাই কাজে লেগে পড়ে। রুমনি বিরক্ত হয়ে উঠে পড়ল। সে রাত তিনটে অবধি পড়েছে। সকাল থেকে জানলায় ঝটপটানি আর ক্ররম্ ক্ররম্ – ঘুমের দফা রফা! সঙ্গে মাইগ্রেন। সারাদিন এই চলবে। সঙ্গে মারামারিটা ফাউ। সারাদিন জানলায় বসে গুলতানি করা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই যেন। অথচ অন্য পাখিদের দেখ!  বেচারি চোখ ডলতে ডলতে মাইক্রোতে চায়ের জল চাপিয়ে ঢুলতে থাকে।

Tuesday, March 29, 2022

নলেন গুড়ের গন্ধ ||দোলা সেন||

 

দীঘির জলে কালো হিলহিলে শরীরটা নানান ভঙ্গিমায় এঁকেবেঁকে যাচ্ছিল। স্নান করতে করতে তাই দেখছিল বীরা। জলে পড়লে শিবাটা কেমন যেন মাছ হয়ে যায়! অনেক ডাকাডাকি সাধাসাধি করে রোজই ঘরে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু আজ বীরার খুব খিদে পেয়েছে। তিনবারের বার তাই একটু উঁচু গলায় হাঁক দিল – ‘উঠে আয় এবার। আমি ঘর গেলাম।

Monday, September 20, 2021

একটা ফ্যানের জন্য

 

কিছুদিন ধরেই নিবারণ বুঝতে পারছিল যে কোথাও একটা গণ্ডগোল আছে। ঘটনাগুলো ঠিক যেভাবে ঘটবার সেভাবে ঘটছে না। মনে অশান্তি থাকলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে গা চুলকাতে চুলকাতে বিড়ি খাওয়াটা নিবারণের অনেক দিনের অভ্যেস। আজও তাই করছিল। কিন্তু খুট করে বাথরুমের দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে, তাড়াতাড়ি বিড়িটা নিভিয়ে অন্যদিকে চলে গেল। নীতা এখুনি এখানে জামাকাপড় মেলতে আসবে। বিড়ির গন্ধ পেলেই ঝামেলা পাকাবে। অফিস যাওয়ার আগে নিবারণ নতুন করে আর কোনো অশান্তি চায় না।

 

অবশ্য সেভাবে দেখতে গেলে নীতা তো ঝগড়া করেও না। কিন্তু হাসিমুখেই এমন দু তিনটে কথা বলে, যা নিবারণ বাপের জন্মে শোনেনি। ভাবা দূরস্থান। ফলে তখনকার মতো হার স্বীকার করা ছাড়া উপায়ও থাকে না। নিবারণ এমনিতে রাগী মানুষ। তার বাবার মতোই। অথচ বাবার রাগের পরে মায়ের প্রতিক্রিয়া, আর তার রাগের পরে নীতার.... নিবারণের মাথাটা আবার গরম হয়ে গেল। মা, বাবাকে কতো ভয়, কতো মান্য করে চলে এখনো, আর নীতা?

 

Thursday, September 16, 2021

অপ্সরার মন

 

 অপ্সরার মন

||দোলা সেন||

[১]

অপ্সরা, তার আবার মন?

 

হাসির হররা উঠলো ইন্দ্রের সভায়। বরুণের হাত থেকে খানিকটা সোমরস ছিটকে পড়ল পবনদেবের গায়ে। বিরক্ত হয়ে সরে বসলেন অগ্নিদেব।

 

-       কি যে করো না, একটু বিবেচনা রাখতে হয়। অ্যালকোহলটা যদি আমার গায়ে পড়ত, বরুণের বারুণী পানের শখ মিটে যেত একেবারে!

 

-       রীতিমতো অগ্নিকাণ্ড ঘটে যেত, কি বলো? -  হাসছিলেন অরুণ।

 

-       মুখখানা পোড়া হনুমানের মতো হয়ে গেলে ... এইই যাঃ! ব্রহ্মা একটা জিভ কাটলেন।

 

বিষ্ণু একটু বিরক্ত হয়ে বললেন – ত্রিকালজ্ঞ লোকের ভীমরতি ধরলে খুব মুসকিল। টাইম, স্পেস, প্লেস সব গুলিয়ে ফেলছে।

 

শিবের নেশার সময় পেরিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তাড়াতাড়ি বিষয়টার নিষ্পত্তি চাইছিলেন। ডমরুটা করকরিয়ে বাজালেন তিনি।

 

-       উঃ, বাজে না বকে আসল কথাটায় এলে হয় না? মেনকা কোথায়? কেসটা কি নিয়ে?