কয়েক সেকেন্ড মাত্র উঠেছে, আচমকাই ছোট্ট একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বন্ধ হয়ে গেল লিফট। কী হল? অফিসে টিমমেম্বারদের মধ্যে ঋদ্ধি বরাবরই ক্যাপ্টেন কুল বলেই পরিচিত। কোনও পরিস্থিতিতেই দিশাহারা হয়ে যায় না। কিন্তু এই মাঝরাত্তিরে এমন পরিস্থিতিতে কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম ফুটলো ক্যাপ্টেন কুলের। ভরসার কথা একটাই। লিফটের আলো নেভেনি। অ্যালার্ম বাটনটা টিপে দিল ঋদ্ধি। কিন্তু সেটা কাজ করল না।
Friday, April 29, 2022
কণ্ঠস্বর, টেলিফোন এবং.... ||দোলা সেন||
একটা ক্যাডবেরি, আর দুশো জিরেগুড়ো...
- আরও
দু-একটা জিনিস বল। নইলে ধরা পড়ে যাবি তো!
মেয়েটা গম্ভীরমুখে দোকানদারকে মেপে নেয়।
- বাজে
বকো খুব। তবে কাকিমা হলুদ আর চানাচুরও বলেছিল। যাকগে, চকলেট ছাড়ো। একটা ফোন করতে
হবে।
বুড়োদা আর কিছু বলে না। নীরবে ফোনটা দেখিয়ে
দেয়। মেয়েটা একমনে ডায়ালের নম্বর ঘোরায়।
ক্র্যাং ক্র্যাং.....
Thursday, April 7, 2022
পায়রাচরিত ||দোলা সেন||
কান বালিশে চেপে ছেঁড়া ঘুম জোড়া দেবার আপ্রাণ চেষ্টা। বালিশে গায়ে সুতোর লেজ থাকে না। বালিশ বেচারা ঘুম সেলাই করতে গিয়ে, ফুসফুসিয়ে শব্দদের বয়ে যেতে দেয়। মেলিয়াসেরা তিন ভাই কাজে লেগে পড়ে। রুমনি বিরক্ত হয়ে উঠে পড়ল। সে রাত তিনটে অবধি পড়েছে। সকাল থেকে জানলায় ঝটপটানি আর ক্ররম্ ক্ররম্ – ঘুমের দফা রফা! সঙ্গে মাইগ্রেন। সারাদিন এই চলবে। সঙ্গে মারামারিটা ফাউ। সারাদিন জানলায় বসে গুলতানি করা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই যেন। অথচ অন্য পাখিদের দেখ! বেচারি চোখ ডলতে ডলতে মাইক্রোতে চায়ের জল চাপিয়ে ঢুলতে থাকে।
Tuesday, March 29, 2022
নলেন গুড়ের গন্ধ ||দোলা সেন||
দীঘির জলে কালো হিলহিলে শরীরটা নানান ভঙ্গিমায় এঁকেবেঁকে যাচ্ছিল। স্নান করতে করতে তাই দেখছিল বীরা। জলে পড়লে শিবাটা কেমন যেন মাছ হয়ে যায়! অনেক ডাকাডাকি সাধাসাধি করে রোজই ঘরে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু আজ বীরার খুব খিদে পেয়েছে। তিনবারের বার তাই একটু উঁচু গলায় হাঁক দিল – ‘উঠে আয় এবার। আমি ঘর গেলাম।‘
Monday, September 20, 2021
একটা ফ্যানের জন্য
কিছুদিন ধরেই নিবারণ বুঝতে পারছিল যে
কোথাও একটা গণ্ডগোল আছে। ঘটনাগুলো ঠিক যেভাবে ঘটবার সেভাবে ঘটছে না। মনে অশান্তি
থাকলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে গা চুলকাতে চুলকাতে বিড়ি খাওয়াটা নিবারণের অনেক দিনের
অভ্যেস। আজও তাই করছিল। কিন্তু খুট করে বাথরুমের দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে, তাড়াতাড়ি
বিড়িটা নিভিয়ে অন্যদিকে চলে গেল। নীতা এখুনি এখানে জামাকাপড় মেলতে আসবে। বিড়ির
গন্ধ পেলেই ঝামেলা পাকাবে। অফিস যাওয়ার আগে নিবারণ নতুন করে আর কোনো অশান্তি চায়
না।
অবশ্য সেভাবে দেখতে গেলে নীতা তো ঝগড়া
করেও না। কিন্তু হাসিমুখেই এমন দু তিনটে কথা বলে, যা নিবারণ বাপের জন্মে শোনেনি।
ভাবা দূরস্থান। ফলে তখনকার মতো হার স্বীকার করা ছাড়া উপায়ও থাকে না। নিবারণ এমনিতে
রাগী মানুষ। তার বাবার মতোই। অথচ বাবার রাগের পরে মায়ের প্রতিক্রিয়া, আর তার রাগের
পরে নীতার.... নিবারণের মাথাটা আবার গরম হয়ে গেল। মা, বাবাকে কতো ভয়, কতো মান্য
করে চলে এখনো, আর নীতা?
Thursday, September 16, 2021
অপ্সরার মন
||দোলা সেন||
[১]
অপ্সরা, তার আবার মন?
হাসির হররা
উঠলো ইন্দ্রের সভায়। বরুণের হাত থেকে খানিকটা সোমরস ছিটকে পড়ল পবনদেবের গায়ে।
বিরক্ত হয়ে সরে বসলেন অগ্নিদেব।
- কি যে করো না, একটু বিবেচনা রাখতে হয়। অ্যালকোহলটা যদি
আমার গায়ে পড়ত, বরুণের বারুণী পানের শখ মিটে যেত একেবারে!
- রীতিমতো অগ্নিকাণ্ড ঘটে যেত, কি বলো? - হাসছিলেন অরুণ।
- মুখখানা পোড়া হনুমানের মতো হয়ে গেলে ... এইই যাঃ!
ব্রহ্মা একটা জিভ কাটলেন।
বিষ্ণু একটু
বিরক্ত হয়ে বললেন – ত্রিকালজ্ঞ লোকের ভীমরতি ধরলে খুব মুসকিল। টাইম, স্পেস, প্লেস
সব গুলিয়ে ফেলছে।
শিবের নেশার
সময় পেরিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তাড়াতাড়ি বিষয়টার নিষ্পত্তি চাইছিলেন। ডমরুটা করকরিয়ে
বাজালেন তিনি।
-
উঃ, বাজে না
বকে আসল কথাটায় এলে হয় না? মেনকা কোথায়? কেসটা কি নিয়ে?
Monday, March 1, 2021
চিরন্তন যাত্রী – অলেকজান্ডার সুপারট্র্যাম্প
||দোলা সেন||
১২ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ সাল। ক্যালিফোর্নিয়ার এল সেগুন্ডোতে
ম্যাককেন্ডলস পরিবারে একটি ছেলে জন্মায়। ক্রিস্টোফার জনসন ম্যাককেন্ডলস। পরিবারটি
নিশ্চয়ই খুশি হয়েছিল। কিন্তু একটু বড়ো হয়ে ক্রিস সেই আনন্দ আর নিজের মধ্যে খুঁজে
পায় নি। পরিবার ছেড়ে বন্য প্রকৃতির মধ্যে চলে যাবার, তার মধ্যে নিজেকে হারাবার
প্রবল ইচ্ছেতে সে ছটফট করতো। ১৯৭৬ সালে তারা যখন বাস উঠিয়ে ভার্জিনিয়ায় চলে গেল
তখনও এ অবস্থার বদল হলো না।
তা এজন্য ক্রিসকে খুব একটা দোষও দেওয়া যায় না। কেনই বা তার হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করবে না? বিশেষতঃ সন্ধ্যায় যখন দেখত তার মদ্যপ বাবার হাতে বেদম ঠ্যাঙানি খাচ্ছে তার মা – তখন তার মনে হতো যেদিকে দুচোখ চায়, পালিয়ে যাই। অথবা রাতের বন্ধ দরজার ওপার থেকে মায়ের গোঙানি, সকালে মায়ের গায়ে মুখে কালশিটে, ওয়ালটারের – বাবা বলতে ইচ্ছে করে না ক্রিসের – মুখে এক পৈশাচিক পরিতৃপ্তি – তখন বয়ঃসন্ধির জালে আটকানো কিশোরটি বার বার মনে হতো হেথা নয়, অন্য কোনোখানে। সবচেয়ে অসহ্য লাগত যখন মা কলার দেওয়া পুরোহাতা জামা পরে পরদিন সেই বাবার জন্যই ডিনার তৈরি করতে বসত। বিলি, মনে মিসেস উইহেলমিনা ম্যাকক্যান্ডেলসের মুখের হাসিটা দেখলে ক্রিসের তখন..., যাকগে, সেসব কথা। হয়তো চলেই যেত ক্রিস, যদি না...
